১. ব্রহ্মপুত্র নদ
পরিচিতি: ব্রহ্মপুত্র এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তঃসীমান্ত নদ। তিব্বত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- উৎপত্তি: তিব্বতের কৈলাস পর্বতাঞ্চলের হিমবাহ অঞ্চল।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: কুড়িগ্রাম অঞ্চল দিয়ে।
- বাংলাদেশের প্রধান ধারা: যমুনা।
- পুরাতন ধারা: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র।
- গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কিত নদী: যমুনা, ধলেশ্বরী, বংশী।
- শেষ পর্যন্ত: পদ্মা–মেঘনা নদী ব্যবস্থার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে পতিত।
প্রশ্ন: ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত? — যমুনা।
২. যমুনা নদ
যমুনা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও প্রশস্ত নদ।
- উৎস: ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা।
- প্রবাহ: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণ দিকে।
- গুরুত্বপূর্ণ জেলা: কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল প্রভৃতি।
- মিলন: গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়।
- পরবর্তী প্রবাহ: পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে বৃহৎ নদীপ্রবাহ সৃষ্টি করে।
- গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যমুনা বহুমুখী সেতু।
মনে রাখুন
ব্রহ্মপুত্র → যমুনা → পদ্মা → মেঘনা → বঙ্গোপসাগর
৩. পদ্মা নদ
পদ্মা বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত প্রধান নদগুলোর একটি। গঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের পর এর প্রধান প্রবাহ পদ্মা নামে পরিচিত।
- উৎপত্তি: গঙ্গার মূল উৎস হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ অঞ্চল।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ অঞ্চল দিয়ে গঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- প্রধান মিলন: গোয়ালন্দের কাছে যমুনার সঙ্গে।
- পরবর্তী মিলন: চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে।
- পতন: সম্মিলিত প্রবাহ বঙ্গোপসাগরে।
- প্রধান শাখা: গড়াই, মধুমতি প্রভৃতি।
- গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: পদ্মা সেতু।
গঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের পর কী নামে পরিচিত? — পদ্মা।
পদ্মা ও যমুনার মিলন কোথায়? — গোয়ালন্দের কাছে।
পদ্মা ও মেঘনার মিলন কোথায়? — চাঁদপুরের কাছে।
৪. মেঘনা নদ
মেঘনা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদ এবং দেশের প্রধান নদী ব্যবস্থার একটি।
- উৎপত্তি/নদী ব্যবস্থা: সুরমা–কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
- প্রধান অঞ্চল: সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
- পদ্মার সঙ্গে সম্পর্ক: চাঁদপুরের কাছে পদ্মা ও মেঘনা মিলিত হয়।
- নিম্ন মেঘনা: চাঁদপুরের ভাটিতে সম্মিলিত বৃহৎ প্রবাহ মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরের দিকে যায়।
- গুরুত্ব: নৌপরিবহন, কৃষি, মৎস্য ও পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ।
পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল — চাঁদপুর।
৫. সুরমা নদ
সুরমা সিলেট অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- উৎস: ভারতের বরাক নদী।
- বরাক নদী বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের কাছে বিভক্ত হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা দুটি প্রধান ধারায় প্রবাহিত হয়।
- প্রধান অঞ্চল: সিলেট ও সুনামগঞ্জ।
- সম্পর্কিত অঞ্চল: হাওরাঞ্চল।
- নদী ব্যবস্থা: সুরমা–মেঘনা নদী ব্যবস্থা।
- শেষ পর্যন্ত: মেঘনা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়।
সুরমা ও কুশিয়ারা কোন নদী থেকে সৃষ্টি? — বরাক।
৬. কুশিয়ারা নদ
কুশিয়ারা সিলেট অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- উৎস: বরাক নদী।
- সুরমার সঙ্গে সম্পর্ক: বরাক বাংলাদেশে প্রবেশের পর প্রধানত সুরমা ও কুশিয়ারা ধারায় বিভক্ত হয়।
- প্রধান অঞ্চল: সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও আশপাশের হাওরাঞ্চল।
- গুরুত্ব: হাওরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ।
- নদী ব্যবস্থা: সুরমা–মেঘনা।
মনে রাখুন
বরাক → সুরমা + কুশিয়ারা → মেঘনা
৭. কর্ণফুলী নদ
কর্ণফুলী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদগুলোর একটি।
- উৎপত্তি: ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি অঞ্চলের বরকলের কাছে।
- প্রবাহ: রাঙামাটি → চট্টগ্রাম।
- পতন: বঙ্গোপসাগর।
- গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: কাপ্তাই বাঁধ ও কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর: কর্ণফুলীর মোহনার কাছে অবস্থিত।
- বিশেষত্ব: বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদ।
কর্ণফুলী → কাপ্তাই → চট্টগ্রাম বন্দর
এই তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
৮. তিস্তা নদী
তিস্তা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী।
- উৎস: ভারতের সিকিমের হিমালয় অঞ্চল।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: নীলফামারী অঞ্চলের দিকে।
- প্রধান জেলা: নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম।
- গুরুত্ব: উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ ও জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ।
- নদী ব্যবস্থা: ব্রহ্মপুত্র–যমুনা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: তিস্তার গতিপথ বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে।
তিস্তা = উত্তরাঞ্চল
৯. শীতলক্ষ্যা নদ
শীতলক্ষ্যা মধ্য বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- অবস্থান: প্রধানত নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- উৎস/সম্পর্ক: ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধান শহর: নারায়ণগঞ্জ।
- গুরুত্ব: শিল্প, বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ।
- পরবর্তী সংযোগ: ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ নদ — শীতলক্ষ্যা।
১০. রূপসা নদ
রূপসা দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- অবস্থান: খুলনা অঞ্চলে।
- প্রধান শহর: খুলনা।
- গুরুত্ব: নৌপরিবহন ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
- নদী ব্যবস্থা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থার অংশ।
- পরবর্তী প্রবাহ: পশুরসহ সুন্দরবন অঞ্চলের নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত।
রূপসা নদ = খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
১১. মধুমতি নদ
মধুমতি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- সম্পর্ক: গঙ্গা–পদ্মা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধান অঞ্চল: ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, বাগেরহাট অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- গুরুত্ব: কৃষি, নৌযোগাযোগ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ।
- নদী ব্যবস্থা: গড়াই–মধুমতি প্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গড়াই ও মধুমতি — গঙ্গা/পদ্মা নদী ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নদ।
১২. গড়াই নদ
গড়াই গঙ্গা/পদ্মা নদী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা নদ।
- উৎস/সংযোগ: গঙ্গা নদী থেকে উৎপন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
- প্রধান অঞ্চল: কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল।
- পরবর্তী প্রবাহ: মধুমতি নামে প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- গুরুত্ব: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মিষ্টি পানির প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ।
- পরিবেশগত গুরুত্ব: সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গড়াই = গঙ্গার গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
১৩. মহানন্দা নদী
মহানন্দা উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী।
- উৎস: ভারতের দার্জিলিং–হিমালয় অঞ্চল।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: পঞ্চগড়/চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রবাহ।
- প্রধান অঞ্চল: চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা।
- গুরুত্ব: গঙ্গা/পদ্মা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
- পরবর্তী প্রবাহ: পদ্মা নদী ব্যবস্থায় যুক্ত হয়।
মহানন্দা = উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
১৪. ধলেশ্বরী নদ
ধলেশ্বরী মধ্য বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- সম্পর্ক: যমুনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
- প্রধান অঞ্চল: টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা।
- গুরুত্ব: নৌযোগাযোগ ও পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ।
- পরবর্তী সংযোগ: মেঘনা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
যমুনা → ধলেশ্বরী → মেঘনা নদী ব্যবস্থা
১৫. বংশী নদ
বংশী বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- অবস্থান: টাঙ্গাইল ও ঢাকা অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- নদী ব্যবস্থা: ব্রহ্মপুত্র–যমুনা নদী ব্যবস্থার অংশ।
- গুরুত্ব: স্থানীয় কৃষি, পানি নিষ্কাশন ও নৌযোগাযোগে ভূমিকা রয়েছে।
- সম্পর্কিত নদ: ধলেশ্বরী ও যমুনা।
বংশী = মধ্যাঞ্চলের নদী; যমুনা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
১৬. পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র মূল ব্রহ্মপুত্রের পুরোনো প্রবাহপথ।
- অবস্থান: জামালপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বর্তমান যমুনা: ব্রহ্মপুত্রের প্রধান প্রবাহ বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।
- পুরাতন প্রবাহ: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- গুরুত্ব: ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান প্রধান ব্রহ্মপুত্র প্রবাহ = যমুনা
পুরোনো প্রবাহ = পুরাতন ব্রহ্মপুত্র
১৭. কুমার নদ
কুমার দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- নদী ব্যবস্থা: গঙ্গা–পদ্মা নদী ব্যবস্থা।
- প্রধান অঞ্চল: কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, যশোর অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- গুরুত্ব: কৃষি ও স্থানীয় নৌযোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ।
- সম্পর্ক: পদ্মা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শাখা নদীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত।
১৮. আড়িয়াল খাঁ নদ
আড়িয়াল খাঁ দক্ষিণ-মধ্য বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- সম্পর্ক: পদ্মা নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধান অঞ্চল: ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- গুরুত্ব: নৌযোগাযোগ ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ।
- নদী ব্যবস্থা: গঙ্গা–পদ্মা নদী ব্যবস্থা।
আড়িয়াল খাঁ = দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
১৯. তিতাস নদ
তিতাস বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- অবস্থান: প্রধানত ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- নদী ব্যবস্থা: মেঘনা নদী ব্যবস্থা।
- গুরুত্ব: কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ।
- সাহিত্যিক পরিচিতি: ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের মাধ্যমে নদটির নাম বিশেষভাবে পরিচিত।
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ কার রচনা? — অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
২০. ধনু নদ
ধনু বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- অবস্থান: কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- নদী ব্যবস্থা: সুরমা–মেঘনা।
- গুরুত্ব: হাওরের পানি নিষ্কাশন ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ।
- সম্পর্কিত অঞ্চল: বৃহত্তর হাওর অববাহিকা।
২১. বাউলাই নদ
বাউলাই হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- অবস্থান: প্রধানত কিশোরগঞ্জ–নেত্রকোনা–সুনামগঞ্জ অঞ্চলের হাওর এলাকায়।
- নদী ব্যবস্থা: সুরমা–মেঘনা।
- গুরুত্ব: হাওরাঞ্চলের পানি প্রবাহ ও নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ।
- কৃষি: বোরো ধান চাষের পানিপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২২. হালদা নদী
হালদা বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নদীগুলোর একটি।
- অবস্থান: চট্টগ্রাম অঞ্চলে।
- উৎস: পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল।
- পতন: কর্ণফুলী নদীতে।
- বিশেষত্ব: রুইজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য বিখ্যাত।
- প্রধান মাছ: রুই, কাতলা, মৃগেলসহ কার্পজাতীয় মাছ।
- গুরুত্ব: বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষায় খুব গুরুত্বপূর্ণ
হালদা = রুইজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র।
২৩. সাঙ্গু নদ
সাঙ্গু চট্টগ্রাম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- অবস্থান: পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম।
- উৎস: মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল।
- প্রবাহ: বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে।
- পতন: বঙ্গোপসাগর।
- গুরুত্ব: পাহাড়ি অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ও নৌযোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ।
২৪. মাতামুহুরী নদ
মাতামুহুরী চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- প্রধান অঞ্চল: বান্দরবান ও কক্সবাজার।
- উৎস: পার্বত্য অঞ্চল।
- প্রবাহ: লামা, আলীকদমসহ পাহাড়ি এলাকা।
- পতন: বঙ্গোপসাগর/উপকূলীয় জলভাগে।
- গুরুত্ব: পাহাড়ি কৃষি, পানি নিষ্কাশন ও স্থানীয় জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ।
২৫. নাফ নদ
নাফ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- অবস্থান: কক্সবাজারের টেকনাফ অঞ্চল।
- সীমান্ত: বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমান্তের একটি অংশ।
- প্রবাহ: টেকনাফ উপদ্বীপ ও মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের মধ্যবর্তী।
- পতন: বঙ্গোপসাগর।
- গুরুত্ব: সীমান্ত, মৎস্য ও নৌযোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ নদ = নাফ।
২৬. বাঁকখালী নদ
বাঁকখালী কক্সবাজার অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- অবস্থান: কক্সবাজার।
- উৎস: পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল।
- প্রবাহ: কক্সবাজার অঞ্চলের মধ্য দিয়ে।
- পতন: বঙ্গোপসাগর।
- গুরুত্ব: কক্সবাজারের পানি নিষ্কাশন, কৃষি ও পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার জন্য ‘নদী পরিচিতি’ শর্ট নোট
| নদ | এক কথায় পরিচিতি |
|---|---|
| ব্রহ্মপুত্র | যমুনার মূল প্রবাহের উৎস |
| যমুনা | ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা |
| পদ্মা | গঙ্গার বাংলাদেশি প্রবাহ |
| মেঘনা | দেশের অন্যতম বৃহৎ নদ |
| সুরমা | বরাকের একটি ধারা |
| কুশিয়ারা | বরাকের অপর ধারা |
| কর্ণফুলী | কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম বন্দর |
| তিস্তা | উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী |
| শীতলক্ষ্যা | নারায়ণগঞ্জ |
| রূপসা | খুলনা |
| মধুমতি | দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল |
| গড়াই | গঙ্গার গুরুত্বপূর্ণ শাখা |
| মহানন্দা | উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল |
| ধলেশ্বরী | যমুনা নদী ব্যবস্থা |
| বংশী | মধ্যাঞ্চল |
| পুরাতন ব্রহ্মপুত্র | ব্রহ্মপুত্রের পুরোনো প্রবাহ |
| কুমার | দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল |
| আড়িয়াল খাঁ | দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চল |
| তিতাস | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ধনু | হাওরাঞ্চল |
| বাউলাই | হাওরাঞ্চল |
| হালদা | প্রাকৃতিক মাছের প্রজননক্ষেত্র |
| সাঙ্গু | চট্টগ্রাম–বান্দরবান |
| মাতামুহুরী | বান্দরবান–কক্সবাজার |
| নাফ | বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত |
| বাঁকখালী | কক্সবাজার |